National Education Policy | ৰাষ্ট্ৰীয় শিক্ষা নীতি
Article Bangla News Paper National

অতীতের অনুভব, বর্তমান সমস্যা তথা ভবিষ্যতের আবশ্যকতার উপর গুরুত্ব দিয়ে তৈরী করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি

শ্রী ডি. রামকৃষ্ণ রাও

অধ্যক্ষ, বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থানে

ছয় বছর ধরে শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিচারক, শৈক্ষিক বিশেষজ্ঞ, প্রশাসক তথা অন্য শিক্ষাক্ষেত্রের হিতগ্রাহিদের পরামর্শ, ভৌগলিক ক্ষেত্রফলের দৃষ্টিতে প্রায় এক লক্ষ গ্রাম পর্যন্ত সম্পর্ক সংবাদ, অসংখ্য সেমিনার, কার্যশালার আয়োজন এবং চর্চার পর বহুপ্রতিক্ষিত রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি – ২০২০ এখন ভারত সরকারের অনুমোদনের পর জনতার হাতে উপলব্ধ হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই, এটা এক পরিবর্তনকারী তথা নতুন মার্গদর্শক মহত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, यह एक परिवर्तनकारी तथा नया मार्ग दिखाने वाला महत्वपूर्ण कदम है, যার প্রশংসা করা উচিত। এটা আশা করা উচিত যে এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি সমগ্র, একাত্ম, সর্বসমাবেশী তথা উচ্চ গুণবত্তাযুক্ত শিক্ষাক্ষেত্রে শক্তিশালী পদক্ষেপ হওয়ায় সাথে সাথে একুশ শতকের জন্য আবশ্যক কৌশল তথা মূল্য আধারিত, মানুষ নির্মাণের শিক্ষা পদ্ধতিকে লাগু করার পথ প্রশস্ত করবে।বিদ্যা ভারতী রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি -২০২০ এর আন্তরিক স্বাগত করার সাথে এই বিশ্বাস ব্যক্ত করে যে সার্বজনীন প্রচেষ্টা-প্রতিভাগিতা তথা অনুবর্তী গতিবিধি দ্বারা এই শিক্ষা নীতি নিজের উদ্দেশ্যে সফল হবে। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতির প্রমুখ বিন্দুসমূহের মধ্যে বিদ্যালয়ীন শিক্ষার কাঠামোয় মূলভূত পরিবর্তন করে ৫+৩+৩+৪ বানানো, যার উদ্দেশ্য শিক্ষাকে পূর্ব প্রাথমিক থেকে সিনিওর সেকেণ্ডারী পর্যন্ত সমগ্ন করা তথা ব্যবসায়ীক শিক্ষার সাথে যুক্ত করা।

শিশু পরিচর্যা এবং শিক্ষা (Early Childhood Care and Education- ECCE) কে ব্যবস্থিত স্বরূপ দিলে তা শিক্ষণের আধার হবে, সাথে সাথে স্বাস্থ্য শিক্ষা, পোষণ, স্ব সহায়তা কৌশলের বিকাশ করা।

National Education Policy

অধ্যয়ন পূর্ণ না করে স্কুল ছাড়া বাচ্চাদের শতাংশ কম করার ক্ষেত্রে শিক্ষার সীমারেখা বাড়িয়ে তাদের জন্য শিক্ষার বহু আয়ামী ঔপচারিক তথা অনৌপচারিক পথ খোলার নতুন ব্যবস্থাকে এই শিক্ষা নীতির এক আকর্ষক দিক বলা যেতে পারে। এভাবেই, সমান তথা সমাবেশী শিক্ষার স্বরূপ, যেখানে আর্থিক ও সামাজিক দৃষ্টি থেকে পিছিয়ে পড়া বর্গে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষায় দৃশ্য পার্থক্যকে সমাপ্ত করাও এক মহত্বপূর্ণ প্রয়াস। জীবনের জন্য আবশ্যক কৌশল এবং ক্ষমতার বিকাশ, অধিগম উদ্দেশ্যের আধারে বিষয় সমূহের সমগ্রতা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টির বিকাশ, ডিজিটাল সাক্ষরতা তথা বহুভাষীয় শিক্ষাকে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষার বিকাশের দ্বারা ক্রিয়া আধারিত শিক্ষার দ্বারা আজকের প্রজন্ম কেবল আজকের পরিস্থিতির জন্য নয় তথাপি ভবিষ্যতের ভারতের জন্য ক্ষমতাযুক্ত হবে।

মূল্যায়নের পদ্ধতিকে কেবল পরীক্ষা কেন্দ্রিক না রেখে ছাত্রদের মূল্যায়ন বহুআয়ামী মানকের উপর করার সম্বন্ধে দিশানির্দেশে যে পরিবর্তন হবে, তা এই প্রণালীকে সরল ও অধিক সমগ্র বানাবে। এই নবাচারের সুফল পরিলক্ষিত হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি শিক্ষায় পরিবর্তনের অপেক্ষা করছিল, নতুন শিক্ষা নীতি এরকম অনেক স্তরে সংকেত করে যে অধিক সমাবেশী রাষ্ট্রীয় পাঠ্যচর্চা শীঘ্রই শিক্ষা ক্ষেত্রে মহত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

উচ্চশিক্ষায়ও অনেক পরিবর্তন বহুপ্রতিক্ষিত ছিল। স্নাতক স্তরের চার বছরের পাঠ্যক্রমে একাধিক প্রবেশ-বাহির বিন্দু দেওয়া হচ্ছে যেগুলো বিদ্যার্থীদের জন্য পরিণামকারী বিকল্প হবে। অনেক সংস্থানের সংযোগ করে এক সশক্ত সংস্থানের গঠন করাও সম্মানজনক পদক্ষেপ। এক নতুন রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে শৈক্ষিক রিসার্চের বিভিন্ন ক্ষেত্রের একত্রিকরণ তথা গুনবত্তা বিকাশও প্রসন্নতার বিষয়।

গত ২৯শে জুলাই শিক্ষা নীতির যে স্বরূপ সামনে এল, তা দেখে এরকম অনুভব হয় যে অতীতের অনুভব থেকে শিক্ষা নিয়ে, বর্তমানের সমস্যাগুলোকে বুঝে তথা ভবিষ্যতের আবশ্যকতা মনে রেখে এই নীতি তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষা নীতি থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যায়। 1968 এর শিক্ষা নীতি থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা নীতির ক্রিয়ান্বয়ন হচ্ছে। বিদ্যা ভারতী এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতির প্রভাবি ক্রিয়ান্বয়নে আশাজনক সহায়তা করার বিশ্বাস প্রদান করে তথা সম্বন্ধীয় সকল সংস্থা, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, শৈক্ষিক বিশেষজ্ঞ, প্রশাসকদের এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতির প্রভাবি ক্রিয়ান্বয়নে বাঞ্ছিত সহযোগিতা করার অনুরোধ করে।

আরও একবার সরকার দ্বারা রাষ্ট্র হিতে কৃত এই মহত্বপুর্ণ সচেষ্টার জন্য সেই সকলকে অভিনন্দন, যারা এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি – ২০২০এর রচনায় কোনো না কোনো ভাবে যোগদান করেছেন।

Read More :

Leave a Reply

Your email address will not be published.